25/07/2021
আমরা প্রত্যেকে সালাতের ওয়াক্তগুলো জানি তো?
জেনে নিন ফরজ সালাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে
প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর উপর জ্ঞান অর্জন করা ফরজ। সেটা কী ধরনের জ্ঞান? তা হচ্ছে ইসলামের উপর টিকে থাকার জন্য ও ইসলাম অনুযায়ী জীবন চলার মত মৌলিক জ্ঞান অর্জন করা। অর্থাৎ আল্লাহর দেয়া বিধিনিষেধ মেনে জীবন পরিচালনার জন্য নূন্যতম যে শিক্ষা বা জ্ঞান অর্জন প্রয়োজন সেগুলো অর্জন করা আমাদের উপর আবশ্যক। যেমনঃ সালাতের মৌলিক বিধিবিধান সম্পর্কে জানা, রোজার মৌলিক বিধিবিধানগুলো জানা, যাকাত, রিবা (সুদ) ইত্যাদি বিষয়ে ব্যাসিকগুলো অন্তত আমাদের জানতে হবে।
সালাতের মৌলিক বিধিবিধানগুলোর মধ্যে রয়েছে সালাতের ভিতরে ও বাইরের ফরজগুলো। সালাতের ওয়াজিব কী কী? সালাতের সুন্নত-মুস্তাহাব সম্পর্কেও জানা থাকা উচিত। সালাতের ফরজগুলোর মধ্যে রয়েছে শরীর পাক করা, কাপড় পাক করা, সতর ঢাকা। কেউ যদি না জানে যে কাপড় পাক রাখা সালাতের একটা ফরজ। না জেনে নাপাক কাপড়েই যদি নামাজ পড়তে থাকে তাহলে সেই নামাজ শুদ্ধ হবে না। তাই যে বিষয়গুলোর সাথে নামাজ হওয়া-না হওয়ার সম্পর্কে সে বিষয়গুলো আমাদের জানা থাকতে হবে।
সালাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ হচ্ছে "ওয়াক্ত মত সালাত আদায় করা"। অর্থাৎ যখন যে সালাতের ওয়াক্ত হয়, আমাদেরকে তখন সেই সালাতটিই আদায় করতে হবে। "সালাতের ওয়াক্ত" একটি ফরজ বিষয়। তাই সালাতের ওয়াক্তের বিষয়ে আমাদের নূন্যতম জ্ঞান রাখাটা অত্যন্ত জরুরি। নইলে দেখা যাবে ওয়াক্ত হওয়ার আগেই সালাত আদায় করছি, নতুবা ওয়াক্ত পার হয়ে যাওয়ার পর সালাত আদায় করছি। আরেকটি ব্যাপার ঘটতে পারেঃ ওয়াক্ত শেষ মনে করে সালাত ছেড়ে দিচ্ছি যদিও ওয়াক্ত আছে। তাই জানার কোনো বিকল্প নাই।
যদিও আমাদের অ্যাপে ইনশাআল্লাহ আমরা সালাতের সঠিক ওয়াক্ত দেখিয়ে থাকি। তাও আমাদের মূলনীতি বা মূল মাসআলাগুলো জেনে রাখা উচিত। সালাতের ওয়াক্ত নিয়ে আমরা ইউজারদের থেকে প্রচুর প্রশ্নের সম্মুখীন হই। অসংখ্য ইউজাররা আগে থেকে জেনে আসছেন যে "মাগরিবের ওয়াক্ত ১৫-২০ মিনিট থাকে"। যা একটি ভুল ধারনা। এই ভুল ধারণার কারণে দেখা যায় অনেকে মাগরিবের ওয়াক্ত থাকা অবস্থাতেও সালাত ছেড়ে দেন "ওয়াক্ত চলে গিয়েছে" এমনটা মনে করে। তাই আসুন আমরা সালাতের ওয়াক্তগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করি। পাশাপাশি অন্যান্য আমল সম্পর্কেও আলেমদের থেকে জেনে নিই।
নিচে সালাতের ওয়াক্তগুলো অতি সংক্ষেপে তুলে ধরা হলোঃ
===============================
- সুবহে সাদিক তথা সাহরির সময় শেষ হলে এরপর থেকে ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয়। সূর্য ওঠা শুরু হলে ফজরের ওয়াক্ত শেষ হয়।
- সূর্য মধ্য আকাশ থেকে যখন পশ্চিমে হেলে পড়ে তখন যুহরের ওয়াক্ত শুরু হয়। আসরের ওয়াক্তের আগ পর্যন্ত যুহরের ওয়াক্ত থাকে। হানাফী মাজহাবের মতে কোনো বস্তুর ছায়ার দৈর্ঘ্য যখন ঐ বস্তুর দ্বিগুণ হয় তখন যুহরের ওয়াক্ত শেষ হয়। অন্যান্য মাজহাবের মতে কোনো বস্তুর ছায়া ঐ বস্তুর সমান হয় তখন যুহরের ওয়াক্ত শেষ হয়। উভয় মতের পক্ষেই হাদীসের দলিল রয়েছে।
- যুহরের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার সাথে সাথে আসরের ওয়াক্ত শুরু হয়। যুহরের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার সময় নিয়ে ইমামদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় আসরের শুরুর ওয়াক্ত নিয়েও মতপার্থক্য রয়েছে। হানাফী মাজহাবের মতে কোনো বস্তুর ছায়ার দৈর্ঘ্য তার দ্বিগুণ হলে আসরের ওয়াক্ত শুরু হয়। অন্যান্য মাজহাবের ইমামদের মতে বস্তুর ছায়ার দৈর্ঘ্য ঐ বস্তুর সমান হলেই আসরের ওয়াক্ত শুরু হয়। সূর্যাস্ত বা মাগরিবের ওয়াক্তের আগ পর্যন্ত আসরের ওয়াক্ত থাকে।
- সূর্য পরিপূর্ণ ভাবে অস্তমিত হওয়ার পর মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হয়। ইশার ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত মাগরিবের ওয়াক্ত থাকে। মাগরিবের ওয়াক্ত থাকে শাফাক অদৃশ্য হওয়ার আগ পর্যন্ত। শাফাকের সংজ্ঞা নিয়ে ইমামগণের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। ঘড়ির কাটার হিসাবে ঋতুভেদে মাগরিবের ওয়াক্তের সময় থাকে প্রায় সোয়া ১ ঘন্টা বা এর কিছু কম বা বেশি। লোক মুখে শোনা যায় মাগরিবের ওয়াক্ত ১৫-২০ মিনিট। এ কথাটি সঠিক নয়।
- শাফাক অদৃশ্য হওয়ার পর তথা মাগরিবের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার সাথে সাথে ইশার ওয়াক্ত শুরু হয়। হানাফী ফিকহ অনুযায়ী ইশার ওয়াক্ত থাকে সুবহে সাদিক বা ফজরের ওয়াক্ত শুরুর আগ পর্যন্ত। কিন্তু মধ্যরাতের পর ইশা আদায় করা মাকরুহ। অন্যান্য মাজহাবের আলোকে ইশার শেষ সময় হচ্ছে মধ্যরাত। মধ্যরাত বলতে রাত ১২ টা নয়, বরং মধ্যরাত বলতে বুঝানো হয় সূর্যাস্ত থেকে ফজরের এই পুরো সময়ের middle point-কে। উদাহরনঃ সূর্যাস্ত যদি সন্ধ্যায় ৬টায় হয় আর ফজরের ওয়াক্ত যদি ভোর ৪টায় শুরু হয় তাহলে মধ্যরাত হবে রাত ১১টায়।
ফরজ এবং নফল সালাতের ওয়াক্তগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে এখান থেকেঃ
https://hellohasan.com/2021/07/19/ফরজ-নফল-নামাজের-সময়সূচী
আল্লাহ আমাদের সবাইকে আমৃত্যু ওয়াক্ত মত সালাত আদায়ের তাওফিক দান করুন। আমীন।
ফজর, যুহর, আসর, মাগরিব ও ইশার সালাতের সময়সীমা। এছাড়াও চাশত, ইশরাক বা সালাতুদ দুহা, জাওয়াল, আওয়াবিন ও তাহাজ্জুদ নামাজ...