29/05/2026
সুখে থাকতে চান? ভালো থাকতে চান?
সময় থাকলে এ গল্পটা একটু পড়বেন, প্লিজ।
এক মরুভূমিতে একজন মহিলা একা বাস করতেন। ছোট্ট একটি ঘর ছিল তাঁর। সবসময় পানি পাওয়া যেত না, ফসল হতো না, ফুল ফুটত না, ফলও জন্মাত না।
একদিন তিনি কিছু জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করে পিঠে বেঁধে বাড়ি ফিরছিলেন। কাঠের ভেতরে একটি সাপ ছিল। হঠাৎ সাপটি মহিলার পিঠে কামড় দিল।
মহিলাটি চিৎকার করে বলতে লাগলেন,
“হে সৃষ্টিকর্তা! তুমি কি দেখ না? তুমি কি অন্ধ? আমার এই কষ্টের জীবন কবে শেষ হবে? পানি নেই, খাবার নেই, বৃষ্টি নেই, ফসল নেই!”
সৃষ্টিকর্তার একজন দূত তখন সৃষ্টিকর্তাকে বললেন,
“হে প্রভু, আপনি কি এই মহিলাকে সাহায্য করবেন না?”
সৃষ্টিকর্তা বললেন,
“তুমি যাও, গিয়ে জেনে আসো সে কী চায়।”
দূত তখন মহিলার ঘরে গিয়ে দরজায় কড়া নাড়লেন। মহিলা বিরক্ত হয়ে চিৎকার করে বললেন,
“এই অসময়ে আবার কে এলো? শান্তিতে একটু বিশ্রামও নিতে পারি না!”
এ কথা বলতে বলতে দরজার দিকে আসার সময় তাঁর পায়ে কিছু লেগে যায়, আর তিনি আবার আঘাত পান। তখন তিনি আবার বলতে লাগলেন,
“হে প্রভু, কেন আমাকে এমন কষ্টের জীবন দিয়ে রেখেছ? তুমি কি কিছুই দেখ না?”
দরজা খুলে যখন তিনি সৃষ্টিকর্তার দূতকে দেখলেন, তখন বললেন,
“আমি ভীষণ খুশি। সৃষ্টিকর্তা আমার ডাক শুনেছেন।”
দূত বললেন,
“ঠিক আছে, আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে তোমার সব সমস্যার কথা জানাব।”
দূত ফিরে গিয়ে সব জানালেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন,
“এই মহিলার অবস্থা কবে পরিবর্তন হবে?”
সৃষ্টিকর্তা বললেন,
“কোনো দিনই না।”
দূত তখন বললেন,
“হে প্রভু, আমি যদি এই কথা গিয়ে তাঁকে বলি, তাহলে তিনি ভীষণ আশাহত হবেন, কষ্ট পাবেন।”
সৃষ্টিকর্তা বললেন,
“ঠিক আছে, তুমি যেভাবে ভালো মনে করো, সেভাবেই বলো।”
দূত তখন মহিলার কাছে এসে বললেন,
“আজ থেকে আপনার সঙ্গে যা-ই ঘটুক, ভালো হোক বা মন্দ হোক, প্রতিটি ঘটনার পর আপনি বলবেন—
‘ধন্যবাদ, হে মহান সৃষ্টিকর্তা।’”
সেই সময় থেকে মহিলা প্রতিটি ঘটনার পর বলতে শুরু করলেন,
“ধন্যবাদ, হে মহান সৃষ্টিকর্তা।”
অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তাঁর চারপাশ পরিবর্তন হতে শুরু করল। আগের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হতে লাগল, চারপাশ ফুল ও ফলে সবুজ হয়ে উঠল।
অনেকদিন পর সৃষ্টিকর্তার দূত এসে সব দেখে বুঝতে বাকি রইল না—এ ছিল সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতার সুফল।
এই গল্পটি বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থে বিভিন্নভাবে বর্ণিত হয়েছে। ইসলাম ধর্মে হজরত মুসা (আ.) ও হারুন (আ.)-এর কিছু ঘটনার সঙ্গে এর মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
বাংলাদেশের মানুষ, একবার ভেবে দেখুন—শেখ হাসিনা মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ নানা উন্নয়ন করেছেন। মানুষ ধৈর্য ধরে “আলহামদুলিল্লাহ” বলে সতেরো বছর অপেক্ষা করেছে। আল্লাহও তাঁদের ধৈর্যের ফল দিয়েছেন।
আর এখন তারেক রহমান ঠিকভাবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই অনেকে যার যা ইচ্ছা তাই বলা শুরু করেছেন—কেউ বলছে “ইন্ডিয়ার এজেন্ট”, কেউ বলছে “শ্যাডো প্রধানমন্ত্রী”, আরও কত কিছু!
একবার ভাবুন, যদি সেই মহিলার মতো অধৈর্য হয়ে যান, তাহলে ফল কী হবে? আর যদি প্রতিটি কাজের জন্য আল্লাহর ওপর সন্তুষ্ট থাকেন, তাহলে কী হতে পারে?
আপনি চাইলেই সবকিছু পরিবর্তন করতে পারবেন না, যদি সৃষ্টিকর্তা না চান। আবার আপনি চাইলেই কোনো কিছু ধরে রাখতে পারবেন না, যদি সৃষ্টিকর্তা না চান।
তাই ধৈর্য ধরুন, সবকিছুর জন্য আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন।
আল্লাহ রহমত ও বরকত আরও বাড়িয়ে দেবেন।