22/08/2025
সন্তানকে হারিয়ে ফেলেছিলেন মা, ১৯৭১ সালে। মাতৃভূমির মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলো সন্তান, ফিরে আসেনি আর। অনেক অনেক দিন খোঁজাখুঁজি শেষে, তিনি জানতে পেরেছিলেন, পুত্র তাঁর ফিরে আসবে না কোনোদিন, যুদ্ধরত অবস্থায় শহিদ হয়ে গেছে তাঁর সন্তানটি, সিলেটের কোনো এক জায়গায়।
পুত্র কি পড়ে ছিল সেই অচিন জায়গায় দিনের পর দিন? পিঁপড়ায় খেয়ে ফেলেছে পুত্রকে? কবর কি পেয়েছিলো বুকের ধন? পেলে, কই সে-কবর? মন যে মানে মায়ের! বাপধন রে!
কেউই দিতে পারেনি খোঁজ। মা, যখনই সিলেট অঞ্চলের কারও খোঁজ পেতেন, আকুল আঁচলে ছুটে যেতেন তার কাছে, নাড়ির শেষ চিহ্নের বুকফাঁড়া খোঁজের বাসনায়।
দীর্ঘ একচল্লিশ বছর! দীর্ঘ ৪১ বছর পর, এভাবেই খুঁজতে... খুঁজতে... খুঁজতে,... একদিন, ২০১২ সালে এসে, ৯০ বছর বেঁচে থাকা মা, সন্তানের কবরের হদিস, পেয়ে গেলেন। আহ্! মা রে! কেন তুই এমন অশ্রু?
রাজবাড়ির পাংশা উপজিলার বিরাহিমপুর গ্রামের কুড়ি বছর বয়সী ছেলেটি, ঘর ছেড়েছিলো কৈশোরেই। পুলিশের চাকরিতে যখন সে ময়মনসিংহে, যুদ্ধ শুরু, মুক্তির। যুদ্ধ ফুরোয়, দিন যায়, কেটে যায় মাস, বছর; বেলেজান নেছা, মা, পথ চেয়ে থাকেন। সন্তান ফেরে না। একদিন, হঠাৎ একটি চিঠি এসে পৌঁছায় বেলেজানের হাতে। লিখক─ সি.আর. দত্ত; সেক্টর কমান্ডার, ৪ নং সেক্টরের, মুক্তিযোদ্ধা। বেলেজানের বুক চৌচির হয়ে যায়, পত্রটি পড়ে; পুত্র তাঁর শহিদ হয়ে গেছে সিলেট অঞ্চলের একটি যুদ্ধে। কই তাঁর পুত্রের সমাধি? ২০১২ সালে, একটি বইয়ের পৃষ্ঠায় চোখ পড়ে যায় মায়ের। 'রক্তাক্ত ৭১: সুনামগঞ্জ' বইটির লিখক সুনামগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা বজলুল মজিদ চৌধুরী। বেলেজান নেছা জানলেন অবশেষে, তাঁর আতাহার কোথায় শুয়ে আছে! সিলেটের সুনামগঞ্জ সদর উপজিলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের বাংলাদেশ-ভারত ডলুরা সীমান্তের, মাটির তলায়।
ছবিটি দেখুন। একজন মা, বয়সের ভারে ন্যুব্জ, উপুড় ঝুঁকে আছেন দীর্ঘ চার দশক পর পুত্রকে পেয়ে, পুত্রের সমাধির উপরে। চোখ দু'টি খুলতে, বড্ডো বেগ পেতে হচ্ছে তাঁর। তবু, খুললেন। ওই চোখে, গাঙ; ওই চোখে আষাঢ়; ওই চোখে জনমের বিদীর্ণতম শোক! পুৎ রে! পুৎ রে!
মুক্তিযোদ্ধা আতাহার আলির বুক কি ভেসে যাচ্ছে, মায়ের চোখের লোনাজলে? টপ টপ!... টপ টপ!... টপ টপ!...
আমার মাতৃভূমি, বড়ো দুঃখী মাটি।...
💙🤲
Salah Uddin Ahmed.
#বাংলাদেশ
সন্তানকে হারিয়ে ফেলেছিলেন মা, ১৯৭১ সালে। মাতৃভূমির মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলো সন্তান, ফিরে আসেনি আর। অনেক অনেক দিন খোঁজাখুঁজি শেষে, তিনি জানতে পেরেছিলেন, পুত্র তাঁর ফিরে আসবে না কোনোদিন, যুদ্ধরত অবস্থায় শহিদ হয়ে গেছে তাঁর সন্তানটি, সিলেটের কোনো এক জায়গায়।
পুত্র কি পড়ে ছিল সেই অচিন জায়গায় দিনের পর দিন? পিঁপড়ায় খেয়ে ফেলেছে পুত্রকে? কবর কি পেয়েছিলো বুকের ধন? পেলে, কই সে-কবর? মন যে মানে মায়ের! বাপধন রে!
কেউই দিতে পারেনি খোঁজ। মা, যখনই সিলেট অঞ্চলের কারও খোঁজ পেতেন, আকুল আঁচলে ছুটে যেতেন তার কাছে, নাড়ির শেষ চিহ্নের বুকফাঁড়া খোঁজের বাসনায়।
দীর্ঘ একচল্লিশ বছর! দীর্ঘ ৪১ বছর পর, এভাবেই খুঁজতে... খুঁজতে... খুঁজতে,... একদিন, ২০১২ সালে এসে, ৯০ বছর বেঁচে থাকা মা, সন্তানের কবরের হদিস, পেয়ে গেলেন। আহ্! মা রে! কেন তুই এমন অশ্রু?
রাজবাড়ির পাংশা উপজিলার বিরাহিমপুর গ্রামের কুড়ি বছর বয়সী ছেলেটি, ঘর ছেড়েছিলো কৈশোরেই। পুলিশের চাকরিতে যখন সে ময়মনসিংহে, যুদ্ধ শুরু, মুক্তির। যুদ্ধ ফুরোয়, দিন যায়, কেটে যায় মাস, বছর; বেলেজান নেছা, মা, পথ চেয়ে থাকেন। সন্তান ফেরে না। একদিন, হঠাৎ একটি চিঠি এসে পৌঁছায় বেলেজানের হাতে। লিখক─ সি.আর. দত্ত; সেক্টর কমান্ডার, ৪ নং সেক্টরের, মুক্তিযোদ্ধা। বেলেজানের বুক চৌচির হয়ে যায়, পত্রটি পড়ে; পুত্র তাঁর শহিদ হয়ে গেছে সিলেট অঞ্চলের একটি যুদ্ধে। কই তাঁর পুত্রের সমাধি? ২০১২ সালে, একটি বইয়ের পৃষ্ঠায় চোখ পড়ে যায় মায়ের। 'রক্তাক্ত ৭১: সুনামগঞ্জ' বইটির লিখক সুনামগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা বজলুল মজিদ চৌধুরী। বেলেজান নেছা জানলেন অবশেষে, তাঁর আতাহার কোথায় শুয়ে আছে! সিলেটের সুনামগঞ্জ সদর উপজিলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের বাংলাদেশ-ভারত ডলুরা সীমান্তের, মাটির তলায়।
ছবিটি দেখুন। একজন মা, বয়সের ভারে ন্যুব্জ, উপুড় ঝুঁকে আছেন দীর্ঘ চার দশক পর পুত্রকে পেয়ে, পুত্রের সমাধির উপরে। চোখ দু'টি খুলতে, বড্ডো বেগ পেতে হচ্ছে তাঁর। তবু, খুললেন। ওই চোখে, গাঙ; ওই চোখে আষাঢ়; ওই চোখে জনমের বিদীর্ণতম শোক! পুৎ রে! পুৎ রে!
মুক্তিযোদ্ধা আতাহার আলির বুক কি ভেসে যাচ্ছে, মায়ের চোখের লোনাজলে? টপ টপ!... টপ টপ!... টপ টপ!...
আমার মাতৃভূমি, বড়ো দুঃখী মাটি।...
💙🤲
Salah Uddin Ahmed.
#বাংলাদেশ
Rajib Khan 💙