21/06/2016
কম্পিউটারের ইতিহাস - 2 ।।
তৃতীয় প্রজন্ম (১৯৬৪ – ১৯৭৫)
বিবর্তনের পথ ধরেই নিরন্তর গবেষণার মধ্য দিয়ে আরও উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োগ ঘটালো তৃতীয় প্রজন্মের কম্পিউটার। দ্বিতীয় প্রজন্মের কম্পিউটারে ব্যবহার করা হয়েছিল ট্রানজিস্টর। তৃতীয় প্রজন্মের কম্পিউটারে তার জায়গা নিলো ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (আই সি), যা সাধারণত সিলিকনের একটি মাত্র টুকরোর উপরে তৈরি অতি ক্ষুদ্র স্থানে সীমাবদ্ধ বিদ্যুৎ সঞ্চালন চক্র। যে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে আই সি-র এই ব্যবহার, তার নাম লার্জ স্কেল ইন্টিগ্রেশন (এল এস আই) টেকনোলজি।
দ্বিতীয় প্রজন্মের কম্পিউটারের তুলনায় আরও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে তৃতীয় প্রজন্মের কম্পিউটারে অসুবিধার মাত্রা খুবই কম আসে, সুবিধা বেড়ে যায় অনেকটাই। প্রথমত, তৃতীয় প্রজন্মের কম্পিউটারগুলি ছিল আকারে ছোট।
দ্বিতীয়ত, এগুলি আরও বেশি বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে কাজ করতে পারত। তৃতীয়ত, এগুলি ব্যবহারের সময় কম তাপ উত্পন্ন হত। চতুর্থত, এগুলি তথ্য বিন্যাসের কাজ দ্রুত করতে পারত। পঞ্চমত, এগুলির রক্ষণাবেক্ষণের খরচ ছিল কম। ষষ্ঠত, এই কম্পিউটারগুলি ছিল বহনযোগ্য, অর্থাৎ সহজেই এগুলি এক জায়গা থেকে আরেক জায়গা নিয়ে যাওয়া যেত। সপ্তমত, এগুলি চালাতে কম বিদ্যুৎশক্তির প্রয়োজন হত। অষ্টমত, এগুলির বাণিজ্যিক উত্পাদন ছিল তুলনামুলক ভাবে সহজ এবং এর খরচ ছিল কম।
চতুর্থ প্রজন্ম (১৯৭৫ ও তার পরবর্তী সময়)
তৃতীয় প্রজন্মের এল এস আই প্রযুক্তির জায়গায় চতুর্থ প্রজন্মের কম্পিউটারে ব্যবহার করা হল ভেরি লার্জ স্কেল ইন্টিগ্রেশন টেকনোলজি বা ভি এস এল আই প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তির ভিত্তিতে কম্পিউটারে বসানো হল মাইক্রো প্রসেসর। স্বভাবতই এর ব্যবহারিক সুবিধা বেড়ে গেল অনেক গুণ। প্রথমত, এই কম্পিউটারের উত্পাদন ব্যয় অনেকটা কমে এলো। দ্বিতীয়ত, এগুলি তথ্য বিন্যাসের ভূমিকা পালনের প্রশ্নে খুবই দ্রুত গতিসম্পন্ন। তৃতীয়ত, এগুলির স্মৃতিশক্তি খুব জোরালো অর্থাৎ এই কম্পিউটারগুলি তাদের স্মৃতি বা মেমোরিতে এক সঙ্গে বিশাল পরিমাণ তথ্য ধরে রাখতে পারে। চতুর্থত, এগুলি আকারে বেশ ছোট। পঞ্চমত, এগুলি চালাতে কম বিদ্যুৎ লাগে। ষষ্ঠত, এ যাবত আলোচিত চারটি প্রজন্মের মধ্যেই এই প্রজন্মের কম্পিউটারগুলিই দামের দিক থেকে সবচেয় সস্তা।
পঞ্চম প্রজন্ম
বিজ্ঞানীরা এখন পঞ্চম প্রজন্মের কম্পিউটার তৈরির কাজে ব্যস্ত, চলেছ আরও উন্নত ও পরিমার্জিত প্রযুক্তি উদ্ভাবনের গবেষণা। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে অপটিক ফাইবার প্রযুক্তির প্রয়োগ। মনে রাখতে হবে, মানুষের মেধার যেমন স্বকীয়তা আছে, কম্পিউটারের কিন্তু তা নেই। কম্পিউটারকে মেধাসম্পন্ন করে তুলতে হয়। তাই কম্পিউটারের মেধা কৃত্রিম মেধা। এই মেধা ও তার ব্যবহারকে অপটিকাল ফাইবার ও অন্যান্য প্রযুক্তির সাহায্যে কত তীক্ষ্ণ ও দক্ষ করে তোলা যায়, পঞ্চম প্রজন্মের কম্পিউটারে চলছে তারই পরীক্ষা-নিরীক্ষা।
আধুনিক কম্পিউটারের শ্রেণি বিভাগ : তথ্য বিন্যাসের পদ্ধতির ভিত্তিতে কম্পিউটারকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। এগুলি হল (১) ডিজিটাল কম্পিউটার (২) অ্যানালগ কম্পিউটার (৩) হাইব্রিড কম্পিউটার। ডিজিটাল কম্পিউটারকে আবার তার আকার ও ক্ষমতার ভিত্তিতে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায় — (১) সুপার কম্পিউটার (২) মেইন ফ্রেম, (৩) মিনি কম্পিউটার, (৪) মাইক্রো কম্পিউটার, (৫) পার্সোনাল কম্পিউটার (পি সি)।
এখনকার দিনে সর্বত্রই শুধু ডিজিটাল কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। তাই এই বিভাগে পরবর্তী পর্যায়ে ডিজিটাল কম্পিউটারকে সামনে রেখে বা তার সাপেক্ষেই যাবতীয় আলোচনা করা হলো।
সূত্র :কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, আই আই আই এম