13/05/2024
সকাল সকাল হাজার বার বলা কথা আবার বলি, যদি এক জনেরও লাভ হয়। পারলে এই লেখাটা শেয়ার দিয়েন।
চুরিবাটপারি, ধান্ধাবাজি, লোক ঠকানো কিংবা ডাকাতি করা ছাড়া শর্টকাটে বড়লোক (ধনী অর্থে) হবার কোনো রাস্তা আমি দেশে বা বিদেশে কোথাও দেখিনাই। কেউ যদি বলে, ভাই আসেন, এই জায়গায় টাকা ঢালেন, কোনোরকম রিস্ক ছাড়াই রাতারাতি ধনী হয়ে যাবেন, সে মিথ্যা কথা বলতেসে। আমার নিজের চোখে দেখা কিংবা ১০০% বিশ্বস্ত সোর্সের মাধ্যমে জানা কিছু ঘটনা বলি।
১) সাবেক এমপির ছেলে, গুলশানে নিজের বাড়ি। সেই বাড়ি বন্ধক দিয়ে এবং লোন নিয়ে সমস্ত টাকা আন্দাজে শেয়ার ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছে। শেয়ারে ধস নেমে সব টাকা খুইয়েছে, রাস্তার ফকির হয়ে গিয়েছে। টাকার শোকে হার্ট এ্যাটাক করে মরেছে, বউটা ছোট ছোট বাচ্চার খাবার যোগাতে প্রস্টিটিউশনে নেমেছে।
২) বিয়ে করেছে মাত্র ৬ মাস হলো, খুবই সুখের সংসার। সুদে টাকা নিয়ে সহ, বউর বাপের ফ্ল্যাট বন্ধক রেখে ২৬ লাখ টাকা নিয়ে এক হায়হায় কোম্পানিতে ইনভেস্ট করেছিলো। ওই কোম্পানির CEO জেলে যাওয়ার সাথে সাথে সব শেষ। ইন-লদের শেষ সম্বল ফ্ল্যাট হাতছাড়া, নিজের বউ হাতছাড়া, বাপ হার্ট এটাক করে মারা গেছে, সুদের টাকার জন্য দাদন দেয়া মহাজন গ্রামের বাড়ি দখল করে রাখছে। ও এসব করতে করতে নিজের সবেধন নীলমনি চাকুরি টাও হারিয়েছে।
এটা মাত্র দুইটা ঘটনা। এরকম হাজার হাজার ঘটনা আছে, চাইলে কমেন্টে নিজের দেখা ঘটনা শেয়ারও করতে পারেন।
কথা হচ্ছে, শেয়ার বাজারে ইনভেস্ট বা কোম্পানিতে টাকা ঢালা কি খারাপ?
উত্তর হচ্ছে, না, মোটেই না। গোটা বিশ্বেই মানুষ এটা করছে, লাভবানও হচ্ছে।
কিন্তু যারা লাভবান হচ্ছে তাদের একটা জিনিস আছে যা আনাড়ীদের নাই- সেটা হচ্ছে জ্ঞান।
এই জ্ঞান চোখে দেখা যায় না, এবং এটা অর্জন করতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা লাগে, সময় লাগে, পরিশ্রম লাগে।
আপনি আমাকে যে কোনো নন-ফিকশন বই দেন যেটা জেনারেল রিডারদের জন্য লেখা, আমি মোটামুটি পাঁচ মিনিট উল্টায় পাল্টায়ে বলে দিতে পারবো বইটার মান কেমন। কিন্তু পাঁচ মিনিটে এইটা বলার জন্য আমার চার বছর বয়েসে বানান করে বই পড়া শেখা থেকে পরবর্তী ৩৫ বছর টানা বইয়ের নেশায় ডুবে থাকতে হয়েছে। আই গেট ড্রাঙ্ক অন বুকস।
এটা শুধু আমার মত সাধারণ মানুষের জন্য প্রযোজ্য না, মহান পিকাসোকে নিয়েও এমন একটা গল্প আছে। উনি পাঁচ মিনিটে একটা ছবি এঁকে বিশ হাজার ডলার চার্জ করেছিলেন কারণ ওই ছবি আঁকা শিখতে উনাকে ত্রিশ বছর সময় দিতে হয়েছে, অন্য নিরাপদ ক্যারিয়ার ছেড়ে এটার পেছনে লেগে থাকতে হয়েছে।
আপনি সারা মাস খেটে যে বেতন পান, একজন অভিনেতা, গায়িকা বা খেলোয়াড় কয়েক ঘন্টা পারফর্ম করে তার একশ গুণ পায়। কেন পায়? কারণ ওই এক ঘন্টার পেছনে আছে হাজার ঘন্টার রক্ত, ঘাম আর কান্না মাখা আত্মত্যাগ।
সাকিব আল হাসান মাঠে নেমে যা করতে পারে, আপনি কি ওইটা পারবেন? পারবেন না।
তাহলে টাকাপয়সার খেলায় শর্টকাট খোঁজেন কেন?
যারা শর্টকাটে বড়লোক হয়, তাদের হয় আছে ব্যবসায়িক জ্ঞান, অথবা এমন কোনো খুঁটি যেটা আমজনতার ধরাছোঁয়ার বাইরে। এতে আবার রিস্কও খুব হাই। মনে করেন কোনো দুর্বৃত্ত ব্যক্তির ছত্রছায়ায় আপনি শর্টকাটে ধনী হলেন। কোনোকিছুই তো চিরস্থায়ী না, ওই দুর্বৃত্ত যখন ধরা খাবে, আপনিও তো ধরা খাবেন, জেলে যাবেন, প্রাণও হারাতে পারেন। এই রিস্ক নিতে রাজি আছেন তো?
আমার গুরু শিমুল ভাই আমাকে জীবনের শ্রেষ্ঠ ফাইনান্সিয়াল এ্যাডভাইস দিয়েছেন। উনি বলেছেন, নিজের আয় তিন ভাগ করবেন। এক ভাগ মনে করবেন বিপদের সঞ্চয়, ওতে আপনার কোনো হাত নাই-ওটা জমাবেন। এক ভাগ হচ্ছে আপনার ভাত কাপড় বা অপারেশনাল cost. আর তৃতীয় ভাগ হচ্ছে আপনার বিনোদন খরচ। মরে গেলেও বিনোদন বা এ্যাডভেঞ্চার খাতে আপনার বিপদের সঞ্চয় বা ভাত কাপড়ের খরচ ইনভেস্ট করবেন না।
ধরেন,কোনো বিনিয়োগে সফল হলে আপনি রাজপ্রাসাদে থাকলেও থাকতে পারেন। কিন্তু যদি ফেইল করেন, আপনার মাথার উপর যে ছাদটুকু আছে ওইটাও যাবে।
আপনি যদি মানুষের বাচ্চা হয়ে থাকেন, এই বিনিয়োগ থেকে আপনি এক লক্ষ হাত দূরে থাকবেন। কারণ, আপনার এই বিনিয়োগ ফেইল মারলে আপনি না হয় আত্মহত্যা করে বেঁচে যাবেন, আপনার বাপ মা বউ বাচ্চাকে যে ভয়াবহ সময় পার করতে হবে বিনা দোষে, এই অধিকার আপনাকে কেউ দেয় নাই।
বিশেষ করে পরিবারের সদ্য রিটায়ার্ড মুরুব্বিদের মাথায় এ ধরণের এ্যাডভেঞ্চারের চিন্তা প্রায়ই আসে। প্রয়োজনে এদেরকে ঘরে আটকে রাখুন, দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখে তিন বেলা খাবার দিন, তাও যেন এই সর্বনাশ না করতে পারে।
থ্যাংক মি লেটার।
মাসরুফ হোসেন
পুলিশ সুপার (এসপি)
বাংলাদেশ পুলিশ